Saturday, February 6, 2016

জেলায় জেলায় ভাষা আন্দোলন, ছোট জনপদেও একুশের উত্তাপ ।

ভাষার মাসে আমরা শুনব জেলায় জেলায় ভাষা আন্দোলনের উত্তাল দিনের ঘটনা। আজ
গোবিন্দগঞ্জ
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন সূত্র ও ইতিহাস পাঠ থেকে জানা যায় যে আটচল্লিশের মার্চের ভাষা আন্দোলন ঢাকার বাইরে প্রদেশের বিভিন্ন শহরে বিস্তার লাভ করলেও এর ব্যাপকতা ছিল সীমাবদ্ধ বৃত্তে বাঁধা। একই সূত্রে নিশ্চিত বলা চলে যে ১৯৫২ ফেব্রুয়ারির আন্দোলন সে তুলনায় থানা, ইউনিয়ন হয়ে দূর গ্রামের শিক্ষায়তন পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামতে উদ্বুদ্ধ করে। একুশের জাতীয় চরিত্র গড়ে ওঠে শ্রেণি ও সম্প্রদায়-নির্বিশেষ রূপ নিয়ে।
সর্বজনীন চরিত্রের বলেই একুশের উত্তাপ দূর উত্তরের গোবিন্দগঞ্জকেও স্পর্শ করে। ছাত্র-জনতা প্রতিবাদী স্লোগান কণ্ঠে নিয়ে পথে নামে। যেমন জেলা শহর রাজশাহী বা রংপুরে, তেমনি একই চরিত্রে উদ্বুদ্ধ রংপুর জেলার অন্তর্গত গোবিন্দগঞ্জ থানার ছাত্র-জনতা। ভাষিক আবেগে উদ্বেল হয়ে তারা সরকারি অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সক্রিয় হয়। স্লোগান ওঠে: ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’।
ভাষা আন্দোলন একুশের বিস্তারিত বিবরণ পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই আন্দোলন ছাত্রদের হাতে শুরু হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগাতে পেরেছিল এবং ক্ষেত্রবিশেষে কৃষকদের সমর্থন আদায় করতে পেরেছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃষক শ্রেণির একাংশ সদলবলে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, মিছিলে যোগ দিয়েছে, জনসভার আয়তন বৃদ্ধি করেছে। ইতিহাস বলে, অভিজ্ঞতা বলে, এমন ঘটনা উত্তরবঙ্গের একাধিক দূর-জনপদেও দেখা গেছে। ক্ষেত্রবিশেষে শ্রমিকও একই পথের যাত্রী।
গাইবান্ধা বা চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো গোবিন্দগঞ্জেও শ্রমজীবী মানুষ ভাষা আন্দোলনে শরিক। একুশের বৈশিষ্ট্য হলো, আন্দোলন নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আশ্চর্য এক জাদুর টানে তা আশপাশে ছড়িয়ে গেছে, যদিও এর প্রধান উৎস স্কুল বা কলেজের মতো শিক্ষায়তন। ছাত্রছাত্রীদের আবেগদীপ্ত তৎপরতায় একুশের উত্তাপ ছড়িয়ে গেছে সবখানে।
গোবিন্দগঞ্জ গাইবান্ধা মহকুমা শহর থেকে খুব একটা দূরে নয়। আন্দোলন জেলা থেকে মহকুমা, সেখান থেকে থানা ও ইউনিয়নে ছড়িয়ে গেছে এমন ধারণা অনেকের। এ ধারণা আংশিক সত্য হলেও তথ্য বলে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আন্দোলন জন্ম নিয়েছে স্থানীয় প্রেরণায়। নিকটবর্তী কেন্দ্রের প্রভাব সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। যেমন দেখা যায় গোবিন্দগঞ্জে। এখানে স্থানীয় ছাত্রদের পাশাপাশি আন্দোলন তৈরিতে যুবলীগের মতো সংগঠন বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। আন্দোলনে প্রেরণা জোগাতে বিশেষ অবদান রাখেন প্রগতি রাজনীতির সংগঠক বারীন্দ্রনাথ দেব এবং তাঁর সহায়তায় সক্রিয় ফারাজ মোল্লা, আলতাফ মণ্ডল প্রমুখ ভাষানুরাগী মানুষ।
বর্ষ ১৯৫২-এর ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার অনুসরণে গোবিন্দগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে পতাকা দিবস পালন উপলক্ষে দেখা যায় এক বিশাল গণজমায়েত। সেখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে উত্তেজক বক্তৃতা। সভা শেষে দীর্ঘ মিছিলের পথপরিক্রমা। একুশের প্রস্ত্ততিপর্ব চলে সভা-সমাবেশ এবং মিছিলে, স্লোগানে।
ঢাকার বাইরে একাধিক দূর শহরের মতো গোবিন্দগঞ্জ থানা শহরেও বাইশে ফেব্রুয়ারি খবর আসে ঢাকায় গুলিবর্ষণে হতাহতদের সম্পর্কে। ক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজ, ক্ষুব্ধ জনসাধারণ। ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদসভার অনুষ্ঠান। সেখানে বেশ বড়সড় জমায়েত, প্রতিবাদী ও জ্বালাময়ী বক্তৃতা সবারই। সভা শেষে ছাত্রদের উদ্যোগে প্রতিবাদী মিছিল।
সেই মিছিলের উজ্জ্বল আকর্ষণ ভাষাবিষয়ক বর্ণমালাশোভিত ফেস্টুন। ইতিমধ্যে খবর পৌঁছে গেছে আশপাশ এলাকায়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে এবং মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনবিরোধী স্লোগানে চারদিক সচকিত হয়ে ওঠে। মিছিল এগিয়ে চলে থানার সার্কেল অফিসের দিকে। খবর পেয়ে আশপাশের এলাকা থেকে ‘আগত কৃষক-জনতা মিছিলে যোগ দেয়।’
ছোট থানা শহর গোবিন্দগঞ্জ সেদিন মিছিলের শহর। কিছুটা হলেও তুলনা চলে বাইশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার সঙ্গে, অন্তত চরিত্র বিচারের দিক থেকে তো বটেই। তবে পার্থক্যও ছিল। ঢাকায় ছাত্র আন্দোলন ২২ ফেব্রুয়ারি গণ -আন্দোলনে পরিণত হয় প্রধানত পুরান ঢাকার মহল্লাবাসী তরুণ ও যুবাদের অংশগ্রহণে, আর গোবিন্দগঞ্জের ছাত্র আন্দোলন গণ-আন্দোলনের চরিত্র অর্জন করে শ্রমজীবী কৃষক-শ্রেণির উপস্থিতিতে। এ দুইয়ে ফারাক অনেক, বিশেষ করে রাজনৈতিক চরিত্র বিচারে। আন্দোলন আয়তনে ছোট হলেও গুণগত বিচারে এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
এখানেও প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক চেতনার কিছু মানুষ এবং সরকারি পেটুয়াদের চেষ্টা ছিল আন্দোলন বানচাল করা শক্তি প্রয়োগে ও অপপ্রচারে। কিন্তু প্রগতিশীল ছাত্র-জনতার সম্মিলিত শক্তি সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। কোনো অঘটনও ঘটেনি। পূর্ব বাংলার একটি ছোট প্রান্তিক এলাকায় ভাষা আন্দোলনের উত্তেজক তীব্রতা, এর সামাজিক ব্যাপকতা নিঃসন্দেহে এর জাতীয় চরিত্রের পরিচয় তুলে ধরে।
collected by: http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article

বিটিভির দর্শক ও আয় কমছে, ঋণ করে চ্যানেল বাড়াচ্ছে



রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) দর্শক কমছে। ক্রমাগত কমছে বিজ্ঞাপনের আয়ও। ফলে প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানটির লোকসান বাড়ছে। এ অবস্থায় চীন থেকে পৌনে দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা ও বরিশালে বিটিভির আরও পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ চ্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচারই এর উদ্দেশ্য।
বর্তমানে দেশে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ৪১টি, এর মধ্যে চালু আছে ২৪টি। বেসরকারি টেলিভিশনগুলোকে দিনে একবার হলেও বিটিভির খবর প্রচার করতে হয়, যাতে মূলত সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা থাকে। এই প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে জড়িত বিশিষ্টজনদের অনেকেই ঋণ করে বিটিভির আরও পাঁচটি চ্যানেল স্থাপনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এমআরবি বাংলাদেশের (সাবেক সিরিয়াস মার্কেটিং অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ) দর্শক জরিপ অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিটিভির দর্শক কমছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ বিজনেস পরিচালক সমীর পাল প্রথম আলোকে জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের দর্শকেরা যতক্ষণ টিভি দেখেন, তার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ সময় তাঁদের চোখ থাকে বিদেশি চ্যানেলগুলোর ওপর। বাকি প্রায় ৩০ শতাংশ সময় তাঁরা স্থানীয় চ্যানেলগুলোর সঙ্গে থাকেন। এই দর্শকদের গড়ে ১ শতাংশের কিছু বেশি বা কম সময় দিচ্ছেন বিটিভি দেখার জন্য। ২০১০ সালে এই হার ছিল ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
জানতে চাইলে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর প্রথম আলোকে বলেন, নতুন দর্শক সৃষ্টি করা দূরে থাক, পুরোনো দর্শক ধরে রাখতে পারছে না বিটিভি। এ অবস্থায় আরও পাঁচটি চ্যানেল স্থাপনের পেছনে ঋণের টাকা অপচয় ও অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকছে। এতে আর কোনো মহৎ উদ্দেশ্য আছে বলে মনে হয় না। তাঁর মতে, বিটিভিকে অবিলম্বে বিরাষ্ট্রীয়করণ করে এর সম্পদ, ভবন ও যন্ত্রপাতির প্রতি সুবিচার করা উচিত।
বর্তমানে বিটিভি ছাড়া বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও সংসদ টিভি চালু আছে। তবে বিটিভি ওয়ার্ল্ডের আলাদা কোনো জনবল বা অনুষ্ঠান নেই। বিটিভির অনুষ্ঠানই স্যাটেলাইটে সম্প্রচার করা হয় বিটিভি ওয়ার্ল্ডে। বিশ্বব্যাপী ২৪ ঘণ্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচারের কথা বলা হলেও বিশ্বের কোথায়, কত দর্শক এটি দেখেন তার তথ্য কারও কাছে পাওয়া যায়নি।
সংসদ টিভি নামে আরেকটি চ্যানেল থাকলেও এর নিজস্ব স্টুডিও নেই। বিটিভির কারিগরি সহযোগিতায় স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে এটা চলে। উন্নয়ন চ্যানেল হিসেবে চালুর লক্ষ্যে প্রকল্প নেওয়া হলেও এটিকে শেষমেশ সংসদ টিভি হিসেবে চালু করা হয়। কেবল সংসদ অধিবেশন চলাকালে সংসদ টিভি চালু থাকে। অন্য সময় পর্দায় বিটিভির একটি লোগো ঘুরতে থাকে।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের মতে, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও সংসদ টিভি জগাখিচুড়ি অবস্থায় চলছে এবং এভাবে চলার কোনো মানে নেই। আরও পাঁচটি নতুন চ্যানেল চালু করলে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না।
এই বক্তব্যের সমর্থন মেলে বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ইতিহাস থেকে। তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে ফ্রান্স সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্র চালু হয়। এত বছর ধরে এই কেন্দ্র থেকে মাত্র দেড় ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে। এখন এটা বাড়িয়ে ছয় ঘণ্টা করা হচ্ছে। এই লক্ষ্যে সরকারি তহবিল থেকে আরও ৩৬ কোটি টাকা খরচ করে কেন্দ্রটির আধুনিকায়ন করা হয়।
২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিটিভির খুলনা কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই কেন্দ্র থেকে ক্যামেরাসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ঢাকায় আনা হয়েছে। এ নিয়ে খুলনা সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কমিটি আন্দোলন করেও প্রতিকার পায়নি। এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই কেন্দ্র চালু রাখা যাবে না বলেই সব প্রস্তুতির পর শেষ মুহূর্তে উদ্বোধন অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়।
পাঁচ বছরে আয় অর্ধেক কমেছে: গত ২৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞাপন বাবদ গত পাঁচ বছরে বিটিভির আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে বিটিভির বিজ্ঞাপন আয় ছিল ১১৭ কোটি, এটা কমতে কমতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫২ কোটি টাকায় ঠেকেছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে বিটিভির লোকসান ছিল ৪৩ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে লোকসান বেড়ে হয়েছে ১০১ কোটি টাকা।
ঋণ করে চ্যানেল!: তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাঁচটি বিভাগীয় শহরে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ চ্যানেল করতে প্রাথমিকভাবে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। চীনের কাছ থেকে এই টাকা ঋণ হিসেবে নেওয়া হবে। তবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শেষ পর্যন্ত এই খরচ ১ হাজার ৫০ কোটি টাকায় নেমে আসতে পারে। পরিকল্পনা কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আইন মন্ত্রণালয়ের আইনি মত এবং বিটিভির সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই হওয়াসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এখন খসড়া প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে।
চীনের দুই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এরোস্পেস লং-মার্চ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কোম্পানি লিমিটেড এবং রেডিও ফিল্ম অ্যান্ড টিভি ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে পাঁচটি নতুন চ্যানেল স্থাপনের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করেছে বিটিভি। এরোস্পেস লং-মার্চ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কোম্পানি লিমিটেডের এদেশীয় এজেন্ট মিতুল ট্রেডিং এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রাথমিক সমঝোতার কাজ করেছিল।
জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচ বিভাগে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ চ্যানেল স্থাপনের লক্ষ্যে প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা ও প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
বিটিভিসহ তিনটি সরকারি চ্যানেল যেখানে সুষ্ঠুভাবে চলতে পারছে না, সেখানে আরও পাঁচটি চ্যানেল স্থাপন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি চ্যানেল শেখ হাসিনা সরকারের বিস্ময়কর উন্নয়ন ও অগ্রগতির খবর সব সময় সঠিকভাবে
 নজর দেয় না। এই ঘাটতি পূরণ করবে এসব চ্যানেল। পাশাপাশি দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা, গ্রামীণ অর্থনীতির বহুমুখীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি ত্বরান্বিত করতে এসব চ্যানেল কাজ করবে।
তবে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজ প্রথম আলোকে বলেন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের খবর গুরুত্বের সঙ্গে সম্প্রচার করে। তা ছাড়া প্রতিটি চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশনের কমপক্ষে একটি খবর সম্প্রচার করে থাকে।
তিন জোটের রূপরেখার আলোকে বিটিভির স্বায়ত্তশাসন না দিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আরও পাঁচটি টিভি করা ঠিক হবে কি না—জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিন জোটের রূপরেখা যখন প্রণয়ন করা হয়েছিল তখন স্বায়ত্তশাসনের প্রয়োজন ছিল। এখন বেসরকারি গণমাধ্যমের বিকাশ যেভাবে হয়েছে, তাতে বিটিভিকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার প্রয়োজন আর পড়ে না।
পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপনে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনকারী মিতুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আশিক মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক যোগাযোগ স্থাপন করে দেন। এখন দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে কাজকর্ম এগোচ্ছে বলে তাঁদের আর ডাকা হচ্ছে না। এমনকি তাঁর প্রতিষ্ঠানের পরামর্শকও এখন সরকারের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন।
শাইখ সিরাজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের টেলিভিশনের বাজার কতটুকু তা নিয়ে কোনো মূল্যায়ন বা বিশ্লেষণ হয়নি। দেশে অনেকগুলো বেসরকারি চ্যানেল ছাড়াও বিদেশি চ্যানেলগুলোর অবাধ সম্প্রচার চলছে। অধিকাংশ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের আর্থিক দুরবস্থা চলছে। এর মধ্যে সরকারের পাঁচটি চ্যানেল স্থাপন করার যুক্তি কতটা আছে, তা পরিষ্কার নয়।’
 collected by: http://www.prothom-alo.com/bangladesh/

Thursday, February 4, 2016

অবসরে যাচ্ছেন গুগলের সার্চপ্রধান


 অমিত সিংগাল

গুগলের সার্চ বা অনুসন্ধান বিভাগের প্রধান অমিত সিংগাল অবসরে যাচ্ছেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি সিংগালের বিদায়ের দিন। তাঁর জায়গায় আসছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগের নির্বাহী জন জিয়ানানেদ্রা। বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০০০ সালে গুগলে যোগ দিয়েছিলেন সিংগাল। তখন থেকে গুগলের ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিনের কারিগরি উন্নয়ন দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে গুগল সার্চ ইঞ্জিনকে দ্রুত, স্মার্ট ও মোবাইল যন্ত্রে ব্যবহারোপযোগী করে তুলেছে। গুগল সার্চের ক্যালকুলেটর, আবহাওয়ার তথ্য যুক্ত করার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।
গুগল প্লাসে লেখা একটি পোস্টে সিংগাল লিখেছেন, ‘আমি যখন শুরু করেছিলাম, মাত্র ১৫ বছরের ব্যবধানে আমরা গুগলকে এ অবস্থায় আনতে পারব। গুগলকে যে প্রশ্নই করা হোক না কেন, তথ্য খুঁজে এনে হাজির করবে। আমার প্রিয় স্টার ট্রেক কোম্পানি বাস্তবতার মুখ দেখছে। আমি যা ধারণা করেছিলাম, এটা তার চেয়ে বেশি কিছু।’
জিয়ানানেদ্রা দায়িত্ব নিলে গুগল সার্চ আরও উন্নত হবে বলে আশা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। ২০১০ সালে গুগলে যোগ দেন তিনি। মেটাওয়েব টেকনোলজিতে কাজ করেছেন তিনি।

copy right by: http://www.prothom-alo.com/technology

Wednesday, January 27, 2016

চলে গেলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পথ প্রদর্শক মারভিন মিনস্কি

যন্ত্র কী মানুষের মতো ভাবতে পারে? যন্ত্রের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করার কাজ যাঁদের হাত দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁদেরই একজন ছিলেন মারভিন মিনস্কি। সেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পথ প্রদর্শক, কম্পিউটারকে মানুষের মুখের ভাষা বোঝার প্রযুক্তি উদ্ভাবক মারভিন মিনস্কি আর নেই। গত রোববার রাতে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। খবর নিউইয়র্ক টাইমস। মারভিন মিনস্কি

১৯৫৯ সালে গবেষক জন ম্যাককার্থির সঙ্গে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত একটি গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করেন মারভিন মিনস্কি।
এই গবেষণাগার থেকে বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার তৈরি হয় যা মানুষের মস্তিষ্কের নিউরনের মতো করে বিভিন্ন বিষয় শিখতে পারে। মিনস্কির মৃত্যুতে এমআইটিতে তাঁর সহকর্মী প্যাট্রিক উইনস্টন বলেন, ‘বিশাল জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন তিনি।’
১৯২৭ সালে নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্ম হয় মিনস্কির। ১৯৫০ সালে হার্ভার্ড থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং ১৯৫৪ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে পিএইচডি ডিগ্রি পান। গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য অনেক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ১৯৬৯ সালে কম্পিউটার সায়েন্সের সবচেয়ে বড় পুনস্কার টিউরিং অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
collected by: http://www.prothom-alo.com/technology